বিদেশ

অনলাইনে গরুর ভুঁড়ি বিক্রি : তানজিলার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

26views



‘রেডি টু কুক গরুর ভুঁড়ি’ তরুণ উদ্যোক্তা তানজিলা জামানের সিগনেচার আইটেম। মাত্র ছয় মাসেরও কিছু বেশি সময় ধরে অনলাইনে এই একটি আইটেম নিয়েই ব্যস্ত থাকেন তানজিলা। এই অল্প সময়েই তিনি শুধু ভুঁড়ি বিক্রি করেই আয় করছেন প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা। নিজ বাসায় গরুর ভুঁড়ি পরিষ্কার করে হোম ডেলিভারি শুরু করেন তিনি। এত কম সময়ে অনলাইনে এত টাকার ভুঁড়ি বিক্রি দেখে উদ্যোক্তা নিজেই অবাক হয়েছেন বলে ভয়েস অফ আমেরিকাকে তিনি জানান।

অনার্স পরীক্ষার্থী তানজিলা জামান চার বছর বয়সী এক সন্তান ও স্বামী নিয়ে বসবাস করেন রাজধানীর উত্তরায়। সংসার, পড়াশুনা ও সন্তান নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যে ব্যবসা বা চাকুরীর বিষয়টি সেভাবে কখনও তার মাথায় আসেনি। কিন্ত গতবছর অর্থাৎ ২০২০ সালে করোনার প্রাদূর্ভাবের পর ‘উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম’-এ যুক্ত হন তিনি। সেখানে উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্পগুলো তাঁকে খুব বেশি অনুপ্রাণিত করে।

গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু করেন ব্যবসা। শুরুতে ‘ঘি’ নিয়ে কাজ করতে চাইলেও পরে ‘গরুর ভুঁড়ি’ নিয়েই কাজ শুরু করেন তানজিলা। অনলাইনে তার ফেইসবুক পেইজের নাম রাখেন ‘দেশি ফুড’। তানজিলা বলেন, গরুর ভুঁড়ি অনেকেরেই পছন্দের খাবার হলেও পরিষ্কার করার ঝামেলার কারণে ইচ্ছা থাকলেও অনেককেই খাবারের মেনু থেকে এই স্বুস্বাদু আইটেম বাদ দিতে হয়। আর বাজারে যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলো ঠিকমত পরিষ্কার না থাকায় রান্নার আগে ঠিকই ঝামেলা পোহাতে হয়। ক্রেতাদের সেই ঝামেলা থেকে মুক্তি দিতেই তার এই উদ্যোগ।

ভুঁড়ি কাঁচা ও পচনশীল দ্রব্য। আর তাই, অনলাইনে অর্ডার নেয়ার পর উপযুক্ত মান বজায় রেখে সময়মত ক্রেতাদের নিকট সরবরাহ করার বিষয়টির চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে তানজিলা ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, ভুঁড়ির অর্ডার পাওয়ার পর ক্রেতার কাছ থেকে সময় চেয়ে নেন তিনি। কারণ, একটা গরুর ভুঁড়ি সর্বনিম্ন ৬ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। যা গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে লাগে দুই থেকে তিন ঘন্টা। পরিষ্কার করার পর কেজি হিসেবে তিনি প্যাকেট করে হোম ডিলিভারি দিয়ে থাকেন।

নারী উদ্যাক্তা তানজিলা জানান, বাজারে সাধারনত: যেসব ভুঁড়ি কিনতে পাওয়া যায় তার বেশির ভাগই চুন বা সোডা দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। ফলে ভুঁড়ির প্রকৃত স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। তাই স্বাদ ঠিক রাখতে শুধু গরম পানি দিয়েই প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ভুঁড়ি পরিষ্কার করেন তিনি। আর তাই তার ভুঁড়ির চাহিদা প্রচুর।

তানজিলা জানান, তিনি নিজেই উত্তরার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ভাল মানের ভুঁড়ি সংগ্রহ করেন। পরে বাসায় এসে নিজেই ভুঁড়ি পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন। তার কাজে সহযোগিতার জন্য দু’জন সহযোগি রেখেছেন, যারা ভুঁড়ি পরিষ্কারে বিশেষভাবে সহায়তা করে।

শুধুমাত্র জীবিকার তাগিদেই এ কাজ করছেন না, বরং ভালবেসেই কাজটি করছেন। তাতে ভাল একটা আয়ও হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকজন লোকেরও কর্মসংস্থান হচ্ছে।



Source link