দেশ

কাউন্সিলর আনিসের হলফনামায় নেই আটতলা ভবন

কাউন্সিলর আনিসের হলফনামায় নেই আটতলা ভবন
10views

মাহমুদুল আলম: মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে গত মেয়াদেও এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন আনিসুর রহমান।

চলতি মেয়াদে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার আগে দেয়া হলফনামায় তিনি স্থাবর সম্পত্তি ’দালান, আবাসিক/বাণিজ্যিক’ সংক্রান্ত ঘরে কিছু লেখেননি। অভিযোগ আছে, তিনি আটতলা অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করলেও হলফনামায় তা উল্লেখ করেননি।

হলফনামায় তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা আছে ‘বিএ’ পাস। হলফনামা দেয়ার সময় এবং অতীতে তিনি কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন না বলে উল্লেখ করেন।

তার ব্যবসা/পেশার বিবরণীতে লেখা হয়েছে, ‘১। মেসার্স আবাস এক্সপোর্ট্ ইমপোর্ট –আমদানী ও রপ্তানী, ২। কাউন্সিলর।’

তিনি এবং তার উপর নির্ভরশীলদের আয়ের উৎস বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষিখাতে ’প্রযোজ্য নহে’। বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া বাবদ তার বাৎসরিক আয় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় তিন লাখ ৯০ হাজার ৬০০ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত এক হাজার ৪০৬ টাকা অনুসারে। পেশা (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক ইত্যাদি) থেকে তার আয়ের বিষয়ে লেখা হয়েছে ‘প্রযোজ্য নহে’। অন্যান্য আয়ের ঘরে লেখা হয়েছে ‘কাউন্সিলর ভাতা ছয় লাখ ৬৯ হাজার ৮০০’। তবে এসব বিষয়ে তার উপর নির্ভরশীলদের ঘরে লেখা আছে ‘প্রযোজ্য নয়’।

নির্বাচনে তার পরিসম্পদ এবং দায়ের বিবরণীতে অস্থাবর সম্পদ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে নগদ টাকা সাড়ে সাত লাখ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রার ঘরে কিছু লেখা নেই। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ আট হাজার ২২৫ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোম্পানির শেয়ারের ঘরে এবং পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ বিষয়ে কিছু লেখা নেই। বাস, ট্রাক, মটরগাড়ি, লঞ্চ, স্টিমার, বিমান ও মোটরসাইকেল ইত্যাদির বিবরণে লেখা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকারাদি ৫ ভরি। ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র দুই লাখ টাকা করে। অস্থাবর সম্পদের এসব বিষয়ে তার স্ত্রী এবং নির্ভরশীলদের বিষয়ে কিছু লেখা নেই।

স্থাবর সম্পদ বিষয়ে তার নিজ নামে অকৃষি জমি ১৭ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টাকা, এপার্টমেন্ট ৬০ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্থাবর সম্পদের অন্যান্য বিষয় যেমন: কৃষি জমি, দালান, আবাসিক / বাণিজ্যিক, চা বাগান, রাবার বাগান, মৎস খামার এবং অন্যান্য ঘরে কিছু লেখা নেই।

আর অস্থাবর সম্পদের মতো স্থাবর সম্পদের বিষয়েও তার স্ত্রী এবং নির্ভরশীলদের ঘরে কিছু লেখা নেই।

হলফনামায় তার দায়-দেনা বিষয়ে লেখা আছে এপার্টমেন্ট ভাড়া হতে অগ্রিম জামানত ৩০ হাজার টাকা, ব্যক্তিগত লোন তিন লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়িক দায় সাত লাখ ১০০ টাকা।

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক থেকে তার একক ঋণের পরিমাণ উল্লেখ করা আছে ২০ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬৫ টাকা।

কাউন্সিলর নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই হলফনামায় স্বাক্ষর করেন তিনি। একইদিন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী (নোটারি পাবলিক) মো. বদরুল আলমও এতে স্বাক্ষর করেন।

তবে এর পরদিন ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ’ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক ব্যবসার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব গোড়ানের ঝিলের পাঁচ-ছয় বিঘা আয়তনের পুরোটাই দখল করে নেন আনিস। সেখানে মাটি ভরাট করে প্লট বানিয়ে তা বিক্রি করেন। আনিসের বর্তমান বাড়ি দক্ষিণ গোড়ানের ৪১১/এ নম্বর হোল্ডিংয়ের জমিও দখল করা। ওই জমিতে আটতলা অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করে বেশির ভাগ ফ্ল্যাট বিক্রিও করা হয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ’পূর্ব গোড়ান ৮ নম্বর গলির মাথায় শাহি মসজিদের সামনে আরেকটি জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে আনিসের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা আরও জানান, নতুন কোনো ভবন কেউ করতে চাইলে সেখানে এ কাউন্সিলরের লোকজন গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আবার এলাকায় কেউ ফ্ল্যাট বাড়ি তৈরি করতে গেলেই তার লোকজন গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। তারা সেখানে ইট-বালু-রড-সিমেন্ট সরবরাহের কাজ দিতে হয়। এ ছাড়া এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে খিলগাঁও-গোড়ান এলাকায় অভিনব কায়দায় মাদক বিক্রির অভিযোগও বেশ পুরনো।

সান নিউজ/আরআই

Copyright © Sunnews24x7

Source link