দেশ

দেশের টেলিভিশন শিল্পে ২৫% মার্কেট শেয়ার ওয়ালটনের দখলে

10views


দেশের টেলিভিশন শিল্পে ২৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে ওয়ালটন মার্কেট লিডার হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এছাড়া শীর্ষ চারটি ব্র্যান্ডের মধ্যে স্যামসাং ১১ শতাংশ, সিঙ্গার ৯ শতাংশ, সনি ৫ শতাংশ এবং এলজি ৪ শতাংশ করে বাজার দখল করে আছে। এক গবেষণায় এ তথ‌্য উঠে এসেছে।

মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশ (MWB) নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ তথ‌্য প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসে টেলিভিশন শিল্পের ওপর দেশব্যাপী এ গবেষণাটি পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। 

বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অফিসে এ অনুষ্ঠানে এ গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করা হয়।

গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন, মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমুল হুসেইন। 

গবেষণাপত্রে দেশের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাজার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিগত এক দশকে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজার ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

২০২০ সালে এই বাজারের আকার ছিল ৩.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রবৃদ্ধির হার বজায় থাকলে ২০২৫ সালে এ বাজারের আকার দাঁড়াতে পারে ৫.১৭ মার্কিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সামগ্রিক ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারের মতই টেলিভিশনের বাজারও ক্রমবর্ধমান। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বিক্রিত ইলেকট্রনিকস পণ্যের মধ্যে টেলিভিশনের মার্কেট সাইজ ৩৩.০৩ শতাংশ। ২০২০ সালে টেলিভিশনের মার্কেট সাইজ ছিল ৬৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৯৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

দেশীয় টেলিভিশন ব্র্যান্ডের বিকাশের ব‌্যাপারে উপদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে— দেশীয় টেলিভিশনগুলোর এমনভাবে প্রমোশনাল ডিজাইন করতে হবে যেন টেলিভিশন কিনতে যারা ভূমিকা রাখেন তাদের সবাইকেই স্পর্শ করে। বেশি বেশি উৎপাদনের প্রতি নজর না দিয়ে কোয়ালিটি বাড়াতে হবে।

তাছাড়াও উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণে মাল্টিব্র‍্যান্ডিং পদ্ধতি অনুসরণ, লেটেস্ট ফিচার যুক্ত, ওয়ারেন্টি অনুযায়ী কাস্টমার সেবা প্রদান, অনলাইন মার্কেটিং, ফ্রি ইনস্টলেশন ও ডেলিভারি, ইএমআই সুবিধা প্রদান, ক্রেতাদের অভিযোগ শোনার জন্য ২৪/৭ কল সেন্টার এবং চ্যাটবটের মত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করাসহ গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) দেশী ব্র‍্যান্ডগুলোকে অধিক পরমাণে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নকল টিভির আমদানি সংযোজন ও বিক্রি বন্ধ করা, গ্রে মার্কেটকে নিরুৎসাহিত করার জন্য বিদেশি টিভির ওপর বর্ধিত কর আরোপ এবং কর আদায় নিশ্চিত করা, দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে টিভি তৈরির সরঞ্জাম ও কাঁচামাল আমদানিতে কর কমানোসহ রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং রপ্তানিকারকদের জন্য সরকারকে আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা করার ব‌্যাপারে সরকারের প্রতি সুপারিশ জানানো হয়েছে মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে।

এসময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজিয়া বেগম, অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ, সহকারী অধ্যাপক শাহীন আহমেদ চৌধুরী ও সহযোগী অধ্যাপক রাফিউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।





Source link