সরকার এ বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন যে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিবেশের কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য অত্যাবশ্যক বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। সহায়তার শর্তাদিও কঠোর হয়ে উঠছে। সরকার তাই বৈদেশিক সহায়তার যথাযথ ব্যবহারের জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সাথে দেশের উন্নয়ন অংশীদারদেরও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত যে বাংলাদেশকে কেবল আরও সহায়তার প্রয়োজন নয়, উন্নত সহায়তারও প্রয়োজন।

অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে দেশি-বিদেশি সম্পদ বরাদ্দকারী বাৎসরিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে, কৃষিক্ষেত্রটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত, কারণ এটি জিডিপির ১৪.২ শতাংশ অবদান রাখে এবং এর ১২০ মিলিয়ন লোকের প্রায় ৭৫ শতাংশ তাদের জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। অতীতে কৃষিক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জীবনযাত্রার মান ক্রমশই খাদ্য আমদানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে বাধ্য করেছিল।

সরকার তাই কৃষির জন্য বরাদ্দ যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের জন্য কৃষিক্ষেত্রে ও খামার-বহির্মুখী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ঋণ প্রদান সহ কৃষকদের বিভিন্ন ধরণের প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এই খাতকে বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য একটি কৃষি কমিশনও গঠন করা হয়েছে।