দেশ

মুদিদোকান-সুপারশপে সেমাই-চিনি কেনার ধুম

26views


রাত পোহালেই শুরু ঈদ আনন্দ। ঈদকে কেন্দ্র করে এখন পোশাক কেনার পাশাপাশি মানুষ ছুটছে সেমাই-চিনির বাজারে। ঈদে আপ্যায়নের অন্যতম অনুষঙ্গ সেমাই। তাই ঈদের কেনাকাটা শেষ মানুষ ছুটছে সেমাই-চিনি কিনতে। মুদিদোকান ও সুপারশপে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। ভোক্তারা সেমাই ও চিনি কেনার পাশাপাশি, ঘি, পোলার চাল, কিসমিস, গরম মসলা ও মাংস বেশি কেনাকাটা করছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়িরা।

তবে ঈদের অতিথি আপ্যায়নেও সেমাইয়ের বেশ চাহিদা থাকলেও করোনাকালে আতিথেয়তা কিছুটা কমেছে। ফলে এারের ঈদে সেমাইয়ের চাহিদা অনেক কমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী, খিলগাঁও, বাসাবো, মালিবাগ, শন্তিনগর, মগবাজার এলাকায় বিভিন্ন মুদিদোকান ও ডিপার্টমেন্টল স্টোর ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজারের মুদিদোকানগুলোতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে বনফুল, কুলসন, প্রাণ, ইরফান, ওয়েল ফুড, কিশোয়ান, ড্যানিশ, প্রিন্সসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেমাই রয়েছে। এছাড়া খোলা লাচ্ছা সেমাইতো রয়েছেই। এছাড়া ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও সুপারশপগুলোতে বিভিন্ন মানের সেমাই আর মসলার পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মুদিদোকানের মতোই এসব স্থানে পণ্য কিনতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ক্রেতাদের।

এছাড়া দোকানগুলোতে সেমাই-চিনি ছাড়াও বিভিন্ন মসলা, গুঁড়ো দুধ, ঘি, সয়াবিন তেল, নারিকেল, সুগন্ধি চাল, কিশমিশ, বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদামসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, দুই বছর আগেও ঈদের ১৫ দিন আগে থেকে সেমাই-চিনি কেনার জন্য মানুষের ভিড় লেগে থাকতো। বিশেষ করে শবে কদরের আগে থেকে সেমাই এবং চিনি বিক্রির চাপ থাকতো সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এখন সেমাইয়ের সেই রকম বিক্রির চাপ কম। করোনা আতঙ্কে মানুষ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই আগের মতো আপ্যায়নও নেই। ফলে সেমাই-চিনির চাহিদা অনেকটা কমে গেছে। বর্তমানে যা সেমাই বিক্রি হচ্ছে তা শুধুমাত্র পরিবার নিয়ে খাওয়ার জন্য কিনছে ক্রেতারা।

দোকানগুলোতে এরফান, বনফুল, প্রাণ, ওয়েল ফুড, কুলসন, কিশোয়ান, ড্যানিশ ও প্রিন্স ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। আর ৫০০ গ্রামের স্পেশাল লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। আর খোলা চিকন সেমাই কেজিপ্রতি মান ও দোকান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৯০ টাকায়। এছাড়া অন্যদিকে খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। এদিকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। এক সপ্তাহ আগে প্যাকেটজাত চিনি সর্বোচ্চ ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকায়।

এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে গরম মসলার বিক্রি বাড়ায় দামেও প্রভাব পড়েছে। কেজিপ্রতি জিরা ৪২০ টাকায়, বাদাম ১৪০ টাকায়, কাজু বাদাম ৯০০ টাকায়, এলাচ ২৫০০ টাকায়, লবঙ্গ বিক্রি করছে ৮০০ টাকায় দারুচিনি ৪৫০ টাকায়, কিশমিশ ৪০০ টাকায়, গুঁড়া দুধ ৬৫০ টাকায়, পোলায়ের চাল ৯০-১০ টাকায়, ঘি ১২০০ টাকায়, পেয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ভোজ্য তেল লিটারপ্রতি ১৩৬ টাকায় ও তরল দুধ ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যে মধ্যে পেয়াজ, গুঁড়া দুধ, ঘি ও তেলের দাম বেশি বেড়েছে।

দক্ষিণ বনশ্রী এলকায় আল-মাদানী স্টোরের স্বত্ত্বাধিকরী খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, ক্রেতারা সাধারণত ঈদের কয়েক দিন  আগে থেকে সেমাই কিনতে শুরু করেছেন। ঈদের আগের দিন বলেই সেমাই বিক্রি বেড়েছে। তবে গত বারের তুলনায় কম। করোনার কারণে আতঙ্কে রয়েছে মানুষ, তাই কেনা-কাটার আগ্রহ কম।

রামপুরা ডেইলি সুপার শপে পণ্যে কিনতে আসা রাজিব হোসেন বলেন, ঈদের দিন সকালে সেমাই বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়েই দিন শুরু করা হয়। এরপর ঈদের নামাজে যাই। এ কারণে রোজার ঈদে সেমাই কেনায় আগ্রহ বেশি থাকে সাধারণ মানুষের।

মালিবাগ বাজারে আসা রফিকুল হক বলেন, ঈদের মাত্র এক দিন বাকি। সে জন্য ঈদের দিনের রান্নার জিনিসপত্র কিনতে এসেছি। সে তালিকায় সেমাই, চিনি, গুঁড়ো দুধ, ঘি, সয়াবিন তেল, চাল, কিসমিস ও বাদাম রয়েছে।





Source link