আমাদের দেশখেলাধুলাফুটবলবিদেশ

মেসির লাল কার্ড ইতিহাস।

goal.com
35views

বিশ্বসেরা তারকা ফুটবলারদের মধ্যে ফুটবলের ক্ষুদে জাদুঘর বলা হয় আর্জেন্টাইন  তারকা  লিওনেল মেসি কে।যার কিনা পুরা ক্যারিয়ার জুড়ে রয়েছে অসংখ্য রেকর্ডের ছড়াছড়ি, সেই ক্যারিয়ার জুড়ে মেসির আরও একটি বড় কৃতিত্ব বলতে গেলে লাল কার্ড প্রায় না দেখা

ফুটবলের এই ক্ষুদে জাদুঘর ক্যারিয়ারে লাল কার্ড যে একবারেই দেখেননি তা নয়।অসংখ্য রেকর্ডের ভিড়ে মাঝে মাঝে পেতে হয়েছে লাল কার্ড শান্ত-শিষ্ট এই আর্জেন্টাইন  তারকা কেও। শান্ত এই খেলোয়াড় হাজারেো ফাউলের স্বীকার হয়েছেন বিভিন্ন ভাবে।সহ্য করেছেন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের দেয়া আঘাত।তবে মাঝে মাঝে তিনিও জ্বলে উঠেছেন এবং স্বীকার হয়েছেন লাল কার্ডের।

তার পুরো ক্যারিয়ারে তিনি লাল কার্ড পেয়েছেন মাত্র চারবার।এর মধ্যে সিনিয়র ক্যারিয়ারে তিনবার এবং বয়সভিত্তিক দলে একবার।লাল কার্ডের এই জার্নিতে জাতীয় দলের হয়ে দেখেছেন দুইবার এবং ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে দেখেছেন দুইবার।

প্রথম লাল কার্ডঃ- বার্সেলোনা ‘বি’ বনাম স্পোর্ত দে তালাফায়া (২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫)।

মেসির লাল কার্ডের এই জার্নি শুরু হয় ২০০৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারিতে বার্সেলোনা ‘বি’ বনাম স্পোর্ত দে তালাফায়া ম্যাচে। তিনি প্রতিপক্ষ স্পোর্ত দে তালাফায়া নামের ক্লাবের সাথে একটি ম্যাচের মধ্যে ক্যারিয়ারের প্রথম লাল কার্ড দেখেন।

দ্বিতীয় লাল কার্ডঃ- আর্জেন্টিনা বনাম হাঙ্গেরি (বুদাপেস্ট, ১৭ আগস্ট, ২০০৫)।

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে অভিষেক ম্যাচে লিওনেল মেসি মাঠে নামার মাত্র ৪৩ সেকেন্ডের মাথায় লাল কার্ড দেখেন।সেদিন ড্রেসিংরুমে ফিরে খুব কেঁদেছিলেন ১৮ বছর বয়সী মেসি। পায়ে বল নিয়ে ছুটে চলার পথে বাধাঁ হয়ে দাড়ান হাঙ্গেরি ডিফেন্ডার ভিলমস ভানসাক।মেসিকে আটকাতে গিয়ে তিনি প্রায় তার জার্সি ছিড়েই ফেলেছিলেন।বিরক্ত হয়ে মেসি তাকে ছাড়ানোর জন্য হাত ব্যবহার করেন এবং হাত গিয়ে লাগে ভিলমসের মুখে ।ভিলমসও সুযোগ পেয়ে অভিনয় শুরু করে দেন, ফলে রেফারি মেসিকে লাল কার্ড দেখান।

তৃতীয় লাল কার্ডঃ- আর্জেন্টিনা বনাম চিলি (সাও পাওলো, ৮ জুলাই, ২০১৯)।

২০১৯ সালের ৮ জুলাই কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আবারও বিতর্কিত লাল কার্ডের মুখে পড়েন তিনি।চিলির বিপদসীমার মধ্যে বল দখলের লড়াইয়ে গ্যারি মেডেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেটি ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত, তখন পরিষ্কার বোঝা যায়নি। এর প্রতিক্রিয়ায় চিলির অধিনায়ক রেগে শরীর দিয়ে গুঁতোতে শুরু করেন মেসিকে।মেসি কোন পাল্টা জবাব দেননি,দুই হাত তুলে চিলি অধিনায়কের প্রতিটি গুঁতোয় পিছিয়েছেন দু-এক পা করে।এরই রেফারি ছুটে এসে সরাসরি লাল কার্ড দেখালেন দুজনকেই!

চতুর্থ লাল কার্ডঃ- বার্সেলোনা বনাম অ্যাথলেটিক বিলবাও ( ১৮ জানুয়ারি, ২০২১)।

মেসির ক্যারিয়ারের শেষ লাল কার্ডটি দেখেন এই মাসেন ১৮ জানুয়ারীতে বার্সা বনাম অ্যাথলেটিকো বিলবাও ম্যাচে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষ মূহুর্তে যখন অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বক্সের বাইরে বল পেয়েছিলেন মেসি, ঠিক তথনি বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় বাধা দিতে পাশ থেকে সামনে গিয়ে পড়ে বিলবাওয়ের স্ট্রাইকার আসিয়ের ভিয়ালিব্রে।

ম্যাচের শেষ মূহুর্তের এই সুযোগটাতে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের বাধাঁ তিনি হয়ত মেনে নিতে পারেননি, তাই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের মাথায় চাটি মারেন ক্ষিপ্ত হয়ে।মেসির এই মারাত্মক ভূলের জন্য লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় থাকে এবং ম্যাচটা হেরে যায় বার্সেলোনা ৩-২ ব্যবধানে।

মেসির ক্যারিয়ারের লাল কার্ড গুলো বেশির ভাগই বির্তকিত। তবুও রেফারির সিদ্ধান্ত তো মেনে নিতেই হয়।

Source :