দেশ

সকল জরা কাটিয়ে শুভ হোক আগামী

19views


আজ পহেলা বৈশাখ। চৈত্র সংক্রান্তির মাধ্যমে ১৪২৭ সনকে বিদায় জানিয়ে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হবে নতুন বছর-১৪২৮। আজ ভোরের প্রথম আলো আসবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে নিয়ে। গতবছরের মতো এবারেও স্বাভাবিকভাবেই সকলের মনে করোনাভাইরাস মুক্ত নতুন বিশ্ব পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু হবে নতুন বছর। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বাঙালি করোনা মহামারি থেকে যেন মুক্তি পায় সেই প্রত্যাশা নিয়েই নতুন বছরকে বরণ করে নেবে বড় কোনও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই, নিজের ঘরে।

পহেলা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। রাজধানী জুড়ে থাকার কথা মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে বর্ষবরণের আয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এখন মহামারিকাল। এদিকে আজ ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে সাতদিনের সর্বাত্মক লকডাউন। ফলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পহেলা বৈশাখের সমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে এবারও। তাই কোনও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নতুন বর্ষকে বরণ করে নেওয়া হবে।

পরিস্থিতি এমনই যে নতুন বছরে মানুষ প্রাণভরে প্রত্যাশা করছে- মৃত্যু থামুক। কাজী নজরুল ইসলাম এর প্রলয়োল্লাস কবিতার মতো আবারও জেগে উঠবে মানুষ। ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর ? প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন ! আসছে নবীন জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!

দেশ-বিদেশের সবাইকে বাংলা নববর্ষ এবং পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে, করোনা সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে নববর্ষের আনন্দ সবাইকে ঘরে বসেই উপভোগ করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে করোনা প্রতিরোধে সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান সরকার প্রধান। বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) তিনি এসব বার্তা দেন।

এই পরিস্থিতিতে এবার নতুন বছরের দিনটি নিজেকে শুধরে নেবার দিন। এবারও ঐতিহ্যবাহী রমনার বটমূলে হচ্ছে না ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। তবে সরকারি এবং বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতারে নববর্ষের বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।

করোনায় নারীর লড়াই সংগ্রাম আরও সংহত হবে উল্লেখ করে আমরাই পারি জোটের জিনাত আরা হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নতুন বছর সময়ের হিসেব। আশা নিয়ে আসে। কিন্তু নতুন বছর এলে তো সব বদলে যায় না। প্রথম যখন লকডাউন ছিল নির্যাতনের মাত্রা নিয়ে কাজ হয়েছে। এখন নারীরা গত একবছরে কীভাবে চাপটা সামলাবে সেই পদ্ধতি বের করে ফেলেছে। প্রচুর নারী অনলাইনে কাজ করছেন। ঘরে বানানো জিনিস বানিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখার চেষ্টা করছে। তবে যারা প্রান্তিক নারী, বাল্যবিবাহের শিকার তাদের হয়রানি কমেনি। শুরুর দিকে সামর্থ্যবানরা এগিয়ে এলেও এবার কতটা সহায়তা করতে এগুবে সেই সন্দেহ রয়েছে। মানুষ আত্মকৌশল নির্ধারণ করেছে, সেটা ইতিবাচক। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কমিউনিটি ফিলিং প্রবল, তারা প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়াতে পারেন। নতুন বছরে শিক্ষাটা হতে পারে কমিউনিটি ফিলিংটা আরও সর্বময় হোক।

অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম নতুন বছরের আহ্বান জানাতে গিয়ে বলেন, বর্তমানে মহামারি করোনার প্রকোপ বেড়েছে। এটা সেকেন্ড ঢেউ না, সেকেন্ড সুনামি। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তার ওপর নির্ভর করবে আমাদের আগামী। এক-দুমাসের মধ্যে যদি সামলে উঠতে পারি তাহলে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হবে। কিন্তু আমরা যেন জীবন-জীবিকার সমীকরণে কোনওকিছু তোয়াক্কা করছি না। যদি সতর্ক না হই তবে সেই জীবন ও জীবিকা কোনওটাই বাঁচবে না। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করলে সবাই বাঁচবো। এখন এই নতুন বছরে একটাই কথা, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আপনি নিজের ভালো যেমন চান না, অন্যের ভালোও চান না। কিন্তু মনে রাখতে হবে এইটা বাংলাদেশ না। বৈশাখ আমাদের বারবার উঠে দাঁড়াতে শেখায়। এবারও সেই উঠে দাঁড়ানোর কথা বলছে, কান দিয়ে সেটা শুনতে হবে। যদি শুনি তাহলে এবারও বৈশাখের শক্তি নিয়ে আমরা উঠে দাঁড়াতে পারবো।





Source link