সময় ব্যবস্থাপনা কেন গুরুত্বপূর্ণ সে প্রসঙ্গে যদি আমরা কথা বলি, তবে আমাদের একমত হতে  হবে যে এটি একটি অপরিহার্য সম্পদ । কল্পনা করুন আপনি পুরো দিনটি কাটিয়েছেন, কিন্তু আপনি কাজের কাজ কিছুই করেননি। আমাদের মতো ঠিক একই দিনে আশেপাশের অনেক লোক এমন রয়েছে যারা এমন অনেক কিছুই করতে পেরেছে যা আপনি করতে চান।

আমাদের অনেকেই এমন রয়েছে যারা অকারণে আমাদের মূল্যবান সময় গুলো নষ্ট করছি। সময় এমন এক জিনিস আপনি যদি এটাকে ভালো কাজে ব্যবহার করেন এটি আপনার জন্য সুফল বয়ে নিয়ে আসবে।আর যদি খারাপ কাজে ব্যবহার করেন এটি আপনাকে একটা সময় বিপদে ফেলবে।

সময়ের সঠিক ব্যবহার আপনার জীবনে এমন পরিবর্তন নিয়ে আসবে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবে না। নিচে সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারলে কী কী সুবিধা পাওয়া যায় তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:-  

১. সময়মতো কাজ সরবরাহ।

সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা একটি কাজকে নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে  সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। এটি আপনাকে সবচেয়ে কার্যকর উপায়ে আপনার কাজের চাপ কমাতে  সহায়তা করে।  আপনি যখন সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে কাজ করবেন এটি আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে। যেকোনো কাজের জন্য অবশ্যই সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারলে অবশ্যই আপনি আপনার কাজটি সময়মতো সম্পন্ন করতে পারবেন।

২. ভাল মানের কাজ।

প্রত্যেকটি কাজের একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। আপনি যদি কাজের ধারাবাহিকতা অনুসারে কাজ করেন এটি অবশ্যই আপনাকে একটি মানসম্পন্ন ফলাফল প্রদান করবে। সময়ানুবর্তিতা একটি বিশেষ গুণ যা আপনার কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে যেকোন কাজ করলে তা থেকে অবশ্যই ভালো ফলাফল আসবে। একজন কর্মী হিসেবে সবার উচিত কাজের সময় সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে সঠিক পদ্ধতিতে কাজটি সম্পন্ন করা।

৩. উৎপাদনশীলতা এবং দক্ষতা

আপনার দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা নির্ভর করে কাজ এবং সময়ের সঠিক সামঞ্জস্যতার মধ্যে। উৎপাদনশীলতা তখনই বৃদ্ধি পায়, যখন কাজের এবং সময়ের প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব প্রকাশ পায়। সময়ের প্রতি উদাসীনতা আপনার কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশী ক্ষতিকর। এটি আপনাকে আপনার লক্ষে পৌছাতে বাধাঁ প্রদান করবে। এজন্য সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

৪. অলসতা কমায়।

“আমি পরে এটা করব”- এটা একটা অজুহাত, যা আমরা সবাই প্রায়ই করি থাকি।  আমাদের উচিত সঠিক সময়ে কাজগুলো সম্পন্ন করা। প্রত্যেকটি কাজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের সাথে কাজটি শেষ করার মন-মানষিকতা নিয়ে কাজ করা। এর মানে এটা নয়, সব কাজ একই সময়ে সম্পন্ন করতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে অবশ্যই সময়ের তারতাম্য হতেই পারে।কারণ কিছু কাজ তুলনা মূলক কঠিন ও সময়সাপেক্ষ্য হয়ে থাকে। আপনি যখন সময়ের প্রতি সচেতন হবেন দেখবেন আপনার কাছে অলসতা থাকবেনা।

৫. চাপ এবং উদ্বেগ কমায়।

এমন সময় আসে যখন  খুব বেশি কাজের কারণে উদ্বেগ কাজ করে। এটি কেবল  উৎপাদনশীলতায় বাধা গ্রস্ত করে না, বরং  সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে।  অতিরিক্ত কাজের প্রেসার উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, হতাশা, স্থূলতা এবং আরও নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সময়ের কাজ সময়ে করে নিতে পারলে এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। এজন্য প্রয়োজন সময়ের সঠিক ব্যবহার করা।

৬. উন্নত  জীবন।

সময়ের সঠিক ব্যবহার শুধু আপনার পেশাগত জীবনকে নয় বরং এটি  বাইরের  জীবনকেও উন্নত করতে পারে। আপনি যদি সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারেন তাহলে এটি আপনার জীবনে আর্শীবাদ হয়ে কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসবে। কারণ সময়ের কাজগুলো যদি সঠিক সময়ে করা সম্ভব না হয় এর প্রতিক্রিয়া পরবর্তীতে অনেক খারাপ ফলাফল বয়ে নিয়ে আসতে পারে।

Leave A Comment