আমাদের দেশদেশধর্ম ও দর্শন

সর্বোচ্চ বিক্রিত ১০টি বাংলা ইসলাকিম বই

18views

বাংলাদেশে হাজারো ইসলামিক বই রয়েছে তার মধ্যে অনেক বই আছে আমরা যাদের নামও শুনিনি। আবার কিছু বই আছে যা পঠক মহলে সারা জাগিছে। আজ আপনদের সামনে সেরা ১০ টি ইসলামি বই নিয়ে কথা বলবো  যা পড়ার পর আপনার চোখ কপালে উঠে যাবে।  এক কথায় অনবদ্য কিছু বই।

. প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ।

বইটির লেখক  আরিফ আজাদ। তিনি মূলত একজন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট। তার এই বইটি একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭ -এ প্রথম প্রকাশ করা হয়। এবং এটি তার প্রথম বই।

২০১৭ সালে বইটি পাঠকদের মাঝে সারা ফেলে দেয়  এবং  একুশে গ্রন্থমেলাতে বইটি সবচাইতে বেশি বিক্রি হয়। বইয়ের প্রত্যেকটা গল্প নাস্তিকদের  প্রশ্নের জবাবে কোরআন-হাদিসের আলোকে বিজ্ঞান ভিত্তিক যৌক্তিক ব্যখ্যা নির্ভর একটি বই।

. ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান

বইটির মূলত বাংলাদেশের লেখা নয় এর মূল লেখত- ইভন রিডলি বাংলায়  ভাষান্তর করেছেন- আবরার হামীম। ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান বইটি একজন নারী সাংবাদীককের আত্মজীবনী  নিয়ে লেখা হয়। ২০০১ নারী সাংবাদীক  আফগানিস্তানে তালেবানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অপহৃত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মুক্তি পেয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বইটি ২০১৭ সালে প্রথম প্রকাশ করা হয়। এবং বইটি পাঠক মহলে তোলপার শুরু করে।

. হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ

বইটি রিখেছেন আবদুল্লাহ আল ফারুক।  মাকতাবাতুল আজহার  থেকে বইটি প্রখাশ করা হয়েছে। মূলত বইটি লেখা হয় একজন অভিনেত্রির জীবন কাহিনি নিয়ে। সে অভিনয় ছেড়ে ধর্মর পথে আসার পর তাকে তার জীবন নিয়ে নানান প্রশ্নের উত্তরের ভিত্তিতে এটি লেখা হয়। ২০১৭ সালে বইটি প্রকাশ পেয়েছে। সেরা বই তালিকায় এটি ৩য় স্থানে রয়েছে। হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ হচ্ছে একটি ছদ্দনাম মাত্র।

.জিন ফেরেশতাদের বিস্ময়কর ইতিহাস

মুসলিম ধর্ম অনুসারিরা বিশ্বাস করে জিন এর অস্তিত্বে আছে। কারন কুরআন ও হাদিসের অনেক জায়গায় জিন ও ফেরেশতাদের বর্ননা দেয়া আছে। এবং আমলামি ইতিহাসেও জিন ও ফেরেস্তাদের অনেক ঘটনা বর্ননা করা হয়। এই বইটি জিন ও ফেরেস্তদের উপর ভিত্তি করে লেখা হয় ।বইটির মূল লেখক আল্লামা জালালউদ্দিন সুয়ূতী (রহ.) ও আল্লামা ইবনে কাছীর (রহ.)। ২০১৫ সালে বইটি বাংলাতে ভাষান্তর করা হয়।

. কোরআন বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পর্দা

এটি লিখেছেন মুফতী মুহাম্মদ হাবীব ছামদানী। এটি একটি তার  গবেষণাগ্রন্থ।  ১৯৯৯ সালে এটি প্রথম প্রকাশ করা হয়। অতপর ২০১৬ সালে বইটির দশম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। এই বইটি পড়লে আপনি কুরআন হাদিসে পাশাপাশি  বিজ্ঞানভিত্তিক পর্দার ভিধান বিষয়ে জানতে পারবেন। যা নারীদের পর্দার বিষয়ে জনতে সহায়ক হবে। এটি সেরা তালিকায় ৫ম স্থানে রয়েছে।

. আধুনিক বিজ্ঞান : আল কুরআন স্রষ্টার অস্তিত্ব

বইটি লিখেছেন মুহাম্মদ আবুল হাসানাত। এটি তার  কোরআন বিষয়ক একটি গবেষণাগ্রন্থ। বইটি  ১২১টি প্রমাণ সংবলিত। বইটি  বিক্রিত ১০টি বাংলা ইসলামী বইয়ের তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।

এই বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে ২০০৭ সালে। এবং ২০১৪ সালে দ্বিতীয় সংস্করণ করা হয়। বইটি মূলত কুরআনে আল্লাহর অস্তিত্ব বিষয়ে  বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিতে অলোচনা করা য়েছে।

. রাসুলুল্লহ (সা.) –এর নামাজ

বইটির মূল লেখক আল্লামা মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন আলবানী। বইটি মূলত লেখা হয়েছে নামাজ শিক্ষা বিষয়ের  উপর। এবং গ্রস্থটি এই বিষয়ের উপর  একটি অনন্য আয়োজন বলা যেতে পারে । গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন মাওলানা আবু নাঈম।  সম্পাদনা করেছেন মাওলানা দাউদ ইবরাহিম। এটি সেরা তালিকায় ৭ নাম্বারে রয়েছে। ২০০৩ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। কেই যদি রাসুল ম. কিভাবে নামাজ পড়েছেন সেটি জানতে চায় তাহলে তার জন্য আমার মনে হয় এরচেয়ে ভাল বই পাওয়া কঠির।

. মহাবীর খালিদ বিন ওয়ালিদ এর ইয়ারমুক যুদ্ধ

বইটি লিখেছেন  মেজর মো. দেলোয়ার হোসেন, এসপিপি, পিএসসি। ২০১৭ সালে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে। সেরা বিক্রি তালিকায় বইটি ৮ম স্থানে রয়েছে এবং এটি হয়েছে খুব কম সময়ের মধ্যে। এটি লিখা হয়েছে  মূলত ইসলামের বীর সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ  পরিচালিত ইয়ারমুকের যুদ্ধের বর্ণনা এবং  তার জীবনীতথ্য উপর ভিত্তি করে। লেখক বইটি প্রকাশ করার পর সেনাবাহিনিকে যোগ দেন। এটি তার লেখা সর্বশেষ বই এর পর তিনি আর কোন বই লেখেননি।

. প্রচলিত ভুল

বিইটি লিখেছেন মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক। ইসলাম ধর্মর প্রচলিত ভুল বিষয়ে লিখা এরচেয়ে ভাল আর কোন বই নেই আপনি এটি পড়লে মুগ্ধ হতে বাধ্য হবেন।

এক কথায় অনবদ্য একটি গ্রন্থ।লেখক বইটিতে মুসলিম সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন জাল হাদিস, মওজু তথ্য তথা ভুল ঘটনা, ভুল উচ্চারণ, ভুল মাসআলাগুলোকে সন্নিবেশিত করেছেন। এটি সেরা বিক্রি তালিকায় ৯ নাম্বারে আছে। ২০১২ সালে এটি প্রথম প্রকাশ করা হয়। মাসিক আল কাউসার পত্রিকায় এটি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করা হত। পরে আলকািইসারে লিখাগুলোকে একত্র করা হয়।

১০. ডাবল স্ট্যান্ডাড

সেরা তালিকায় এটি  ১০ নাম্বার ও শেষ বই এটি। বইটি লেছেন ড. শামসুল আরেফীন। তার লিখা  সাড়া জাগানো অমাইক একটি গ্রন্থ। বইটিতে মোট ১১ টি ছোট গল্প আছে। এই বইটিও নাস্তিকদের  প্রশ্নের জবাবে কোরআন-হাদিসের আলোকে বিজ্ঞান ভিত্তিক যৌক্তিক ব্যখ্যা নির্ভর। ধর্মপ্রেমি মুসলমানদের মনে জায়গা করে নিয়েছে এটি। পথহারা আগামি  প্রজন্মকে ইসলামের সঠিক বার্তাটি যুগের বাহক হিসেবে সুন্দর যৌক্তিক উপায়ে গল্প আকারে তুলে ধরার নতুন নিমার্ণ। যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

Source :