বিদেশ

হাসিনা সরকারকে আবেদন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্টদের

18views



বাংলাদেশের একাধিক জেলায় যে মৌলবাদী তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট জনেরা। সেই তালিকায় নাম রয়েছে পবিত্র সরকার, বরেন্দু মণ্ডল, কুন্তল মুখোপাধ্যায়ের মতো শিক্ষাবিদের। আবার কৌশিক সেন, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, দেবশঙ্কর হালদারদের মতো অভিনেতা, পরিচালকরাও রয়েছেন। রয়েছেন কবি অংশুমান কর, গায়ক মোহন সিং খাঙ্গুরা।

বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি একটি আবেদন লিখেছেন এপার বাংলার বিদ্বজ্জনদের একাংশ। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা লিখেছেন, সংখ্যালঘুর জীবন, জীবিকা, সামাজিক নিরাপত্তার দায়িত্ব সংখ্যাগুরুর উপর বর্তায়। সেইসঙ্গে সরকারের উদ্দেশেও তাঁদের আবেদন, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করুক শেখ হাসিনা প্রশাসন।

আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারীরা একইসঙ্গে বলেছেন, ভারতেও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। পবিত্রবাবু থেকে সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিমদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, “দুঃখের বিষয় সীমান্তের এই পারে ভারতেও এই দায় রক্ষার বিষয়ে নানা শৈথিল্যের ঘটনা ঘটছে, তার কারণ ভারতের রাষ্ট্রশক্তির দর্শন ও আচরণ তার প্রতিরোধে যথেষ্ট সচেষ্ট নয় বলে আমাদের ধারণা। ওদিকে বাংলাদেশে যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল, তাদের রাজনৈতিক শাসন বাংলাদেশের জাগ্রত জনমতের বিদ্রোহের ফলে অপসারিত হয়েছে, কিন্তু তাদের সমর্থকদের বিপজ্জনক গোষ্ঠীগুলি নিশ্চিহ্ন হয়নি।”

ওই আবেদনপত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধর্মনিরেপক্ষতা, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন স্বাক্ষরকারীরা। সেই চেতনা থেকে উপমহাদেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনায় বিচলিত বলে লেখা হয়েছে।

ওই আবেদনে লেখা হয়েছে, “বাংলাদেশের সরকার ও পুলিশের তৎপরতায় বড় রকমের বিপর্যয় হয়তো এড়ানো গেছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের উদার অসাম্প্রদায়িকতা আর মুক্তিযুদ্ধের আলোকিত চেতনা—যে চেতনাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর বলে বিশ্বাস করি—সেই চেতনার বিরোধী এই সব অশুভ উদ্যোগ এই উপমহাদেশের সচেতন ও অখণ্ড মানবতায় বিশ্বাসী মানুষদের বিশেষভাবে বিচলিত করেছে।”

বিভিন্ন মহল থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর চাপ বাড়ছে। দাবি উঠছে, দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক সরকার। হাসিনা নিজেও এ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, কোনও দুষ্কৃতকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনিতে দু’পার বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুমহান। যুগ যুগ ধরে তা চলে আসছে। এপারে বসিরহাট কিংবা ধূলাগড়ের সহিংসতার সময়ে যেমন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, হাসনে আলম চৌধুরীরা সরব হয়ে উঠেছিলেন, তেমনই কুমিল্লা-সহ অন্যান্য এলাকার ঘটনা নিয়ে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্টরাও।



Source link