বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারীভাবে গৃহীত হয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেরসময় প্রায় একই রকম দেখতে একটি পতাকা ব্যবহার করা হতো, যেখানে মাঝের লাল বৃত্তের ভেতর হলুদ রংয়ের একটি মানচিত্র ছিল। ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়।পতাকার উভয় পাশে সঠিকভাবে মানচিত্রটি ফুটিয়ে তোলার অসুবিধা পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলার অন্যতম কারণ।

 বাংলাদেশের পতাকার ইতিহাস

১৯৪৯ সালে এর প্রতিষ্ঠাকালীন আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত এই অঞ্চলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অভিব্যক্তি ছিল। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের পরে, যাতে আওয়ামীলীগ বিজয়লাব করেছিল, পাকিস্তানের সামরিক শাসক জাতীয় সংসদ বাতিল করার কারনে। আওয়ামী লীগের এই বিরোধিতা বাঙালি স্বদেশ, বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় পতাকা তৈরির দিকে পরিচালিত করেছিল। পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের পতাকাও গাড় সবুজ ছিল। বাঙালাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। সবুজকে তাদের দেশের সমৃদ্ধ উদ্ভিদের প্রতীক এবং তারুণ্যের মধ্যে রাখা আশার প্রতীক হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

সেরাজুল আলম নামে এক শিক্ষার্থীর ডিজাইন করা প্রথম পতাকাটি পূর্ব পাকিস্তানের সোনার সিলুয়েটের মানচিত্রে একটি লাল ডিস্ক নিয়েছিল। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের নেতা মুজিবুর রহমান (শেখ মুজিব) বাঙালি স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে কথা বললে তাঁর পিছনে নতুন পতাকা প্রদর্শিত হয়। পাকিস্তান শীঘ্রই দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং মুজিবকে গ্রেপ্তার করে, যিনি বাঙালিকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাড়া দিয়েছিলেন। ডিসেম্বরে ভারতীয় সেনার সহায়তায়, বাঙালিরা তাদের সংগ্রামে সফল হয়েছিল এবং জানুয়ারিতে একটি নতুন সরকার ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৩ জানুয়ারী, ১৯৭২ এ, জাতীয় পতাকা সংশোধিত হয়েছিল। জমির সিলুয়েট মানচিত্রটি মুছে ফেলা হয়েছিল, এবং লাল ডিস্কটি উত্তোলনের দিকে কিছুটা দূরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। লালদের প্রতীকতাকে বাঙালিরা তাদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে রক্ত দিয়েছিল বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। ডিস্কটি “একটি নতুন দেশের উদীয়মান সূর্য” এর প্রতীক বলে মনে করা হয়েছিল।

পতাকার রং

পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তক্ষেত্রাকার সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত থাকবে।লাল বৃত্তটি পতাকার দৈর্ঘ্যরে এক-পঞ্চমাংশ ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট হবে। পতাকার দৈর্ঘ্যের নয়-বিংশতিতম অংশ হতে অঙ্কিত উলম্ব রেখা এবং পতাকার প্রস্থের মধ্যবর্তী বিন্দু হতে অঙ্কিত আনুভূমিক রেখার পরস্পর ছেদ বিন্দুতে বৃত্তের কেন্দ্র বিন্দু হবে। অর্থাৎ পতাকার দৈর্ঘ্যের বিশ ভাগের বাম দিকের নয় ভাগের শেষ বিন্দুর ওপর অঙ্কিত লম্ব এবং প্রস্থের দিকে মাঝখান বরাবর অঙ্কিত সরল রেখার ছেদ বিন্দু হলো বৃত্তের কেন্দ্র।

পতাকার সবুজ পটভূমি হবে প্রতি হাজারে প্রোসিয়ন ব্রিলিয়ান্ট গ্রীন এইচ-২ আর এস ৫০ পার্টস এবং লাল বৃত্তাকার অংশ হবে প্রতি হাজারে প্রোসিয়ন ব্রিলিয়ান্ট অরেঞ্জ এইচ-২ আর এস ৬০ পার্টস

পতাকার মাপ 

পতাকার বিভিন্ন মাপ রয়েছে ভবনে ব্যবহার করার জন্য মাপ হল:-

  • ১০ বাই ৬ ফুট (৩.০ বাই ১.৮ মিটার)
  • ৫ বাই ৩ ফুট (১.৫২ বাই ০.৯১ মিটার)
  • ২.৫ বাই ১.৫ ফুট (৭৬০ বাই ৪৬০ মিলিমিটার)

মোটরগাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার মাপ হল

  • ১৫ বাই ৯ ইঞ্চি (৩৮০ বাই ২৩০ মিলিমিটার) (বড় গাড়ীর জন্য)
  • ১০ বাই ৬ ইঞ্চি (২৫০ বাই ১৫০ মিলিমিটার) (ছোট এবং মাঝারি আকারের গাড়ীর জন্য)

আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য টেবিল পতাকার মাপ হল

  • ১০ বাই ৬ ইঞ্চি (২৫০ বাই ১৫০ মিলিমিটার)

ব্যাখ্যা: পতাকার দৈর্ঘ্য ১০ ফুট হলে প্রস্থ হবে ৬ ফুট, লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে ২ ফুট, পতাকার দৈর্ঘ্যের সাড়ে ৪ ফুট ওপরে প্রস্থের মাঝ বরাবর অঙ্কিত আনুপাতিক রেখার ছেদ বিন্দু হবে লাল বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু।

পতাকার ব্যবহারবিধি

সরকারী গুরুত্বপূর্ণ ভবন এবং অফিসসমূহ, যেমন-রাষ্ট্রপতির বাসভবন, সংসদ ভবন প্রভৃতি, সকল মন্ত্রণালয় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সচিবালয় ভবনসমূহ, হাইকোর্টের অফিসসমূহ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতসমূহ, বিভাগীয় কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার/কালেক্টর, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের অফিসসমূহ, কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগারসমূহ, পুলিশ স্টেশন, শুল্ক পোস্টসমূহ, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এইরূপ অন্যান্য ভবন এবং সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত ভবনসমূহে সকল কর্মদিবসে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলিত হয। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তাদের মোটরযান, জলযান এবং উড়োজাহাজে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করতে