জনসংখ্যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫৭ লাখ। জনসংখ্যার বিশ্লেষণে বাংলাদেশ বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা বাদে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৬৪ টি জেলা জুড়ে প্রায় সমানভাবে বিতরণ করা হয়েছে। আঞ্চলিকভাবে, পূর্বের জেলাগুলির তুলনায় পশ্চিমাঞ্চলের কিছুটা বেশি ঘনত্ব রয়েছে।এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১১১৬ জন, যা সারা পৃথিবীতে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭%। বাংলাদেশের জনসংখ্যা হিসেবে দেখা যায় এর মধ্যে ৮কোটি ১০লক্ষ নারী ও ৮কোটি ৭লক্ষ পুরুষ। সুতরাং দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে নারী ও পুরুষের অনুপাত ১০২:১০০।

বয়স-ভিত্তিক বণ্টন :

  • ০-১৪ বছর : ৩০.৮%
  • ১৫-৪৯ বছর : ৫৩.৭%
  • ৫০-৫৯ বছর : ৮.২%
  • ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে : ৮.১%

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় গড়ে জনসংখ্যা প্রায় ১.৮ মিলিয়ন, প্রতিটি থানায় গড়ে ২৩০,০০০, ইউনিয়ন ২৫,০০০ এবং একটি গ্রাম গড় জনসংখ্যা ২,০০০।পরিবারের সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। একটি পরিবারে গড়ে ৫.৬ জন থাকে।
এখানকার জনগণের গড় আয়ু ৭২.৩ বছর।বাংলাদেশে জন্মহার: প্রতি হাজারে ১৮.৮ জন ও মৃত্যুহার: প্রতি হাজারে ৫.১ জন।

জাতিগতভাবে বাংলাদেশের ৯৮% মানুষ বাঙালি। বাকি ২% মানুষ বিহারী বংশদ্ভুত, অথবা বিভিন্ন উপজাতির সদস্য। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ১৩টি উপজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে চাকমা উপজাতি প্রধান। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরের উপজাতি গুলোর মধ্যে গারো ও সাঁওতাল উল্লেখযোগ্য।ভাষাগত দিক দিয়ে বিবেচনা করলে ৯৮% মানুষের মাতৃভাষা বাংলা, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা। বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি কাজ কর্মে ইংরেজির ব্যবহার প্রচলিত আছে।

ধর্মগত দিক দিয়ে বাঙলাদেশের জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্ম ইসলাম। এখানকার ইসলাম ধর্ম অনুসারী লোকসংখ্যা ৮৬.৬%, এরপরেই রয়েছে হিন্দু ধর্ম ১২.১, বৌদ্ধ ০.৬%, খ্রীস্টান ০.৪% এবং অন্যান্য ০.৩%।মোট জনগোষ্ঠীর ২১.৪% শহরে বাস করে, বাকি ৭৮.৬% গ্রামাঞ্চলের বাস করে। বিগত কয়েক দশকে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগের ফলে দারিদ্র বিমোচন ও জনসাস্থ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। ২০০৫ এর হিসেবে অনুযায়ী মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক দৈনিক মাত্র ১ মার্কিন ডলার আয় করে। আর্সেনিক জনিত বিষক্রিয়া বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এছাড়া বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে।

সাক্ষরতার দিক থেকে বিশ্বে র‌্যাংকিং-এ বাংলাদেশের অবস্থান ১২৪ তম। বাংলাদেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৭৪.৭ % ভাগ। তবে সরকারের নেয়া নানা কর্মসূচীর ফলে দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে। এর মধ্যে ১৯৯৩ সালে শুরু হওয়া শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে।এছাড়া মেয়েদের শিক্ষার জন্য প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে বৃত্তি প্রদান কর্মসূচী নারীশিক্ষাকে এগিয়ে নিচ্ছে।