বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে অবস্থিত হলেও মহাদেশীয়-অক্ষাংশীয় অবস্থানের দিক থেকে এটি উত্তর অক্ষে অবস্থিত। অক্ষাংশীয় মানানুসারে এদেশের অবস্থান ২০ডি. ৩৪মি. উত্তর অক্ষরেখা হতে ২৬ডি. ৩৮মি. উত্তর অক্ষরেখার এবং দ্রাঘিমাংশীয় মানানুসারে ৮৮ ডি. ০১মি. পূর্ব দ্রঘিমারেখা হতে ৯২ডি. ৪১মি. পূর্ব দ্রঘিমারেখার মধ্যবর্তী স্থানে।

কর্কটক্রান্তি রেখা এদেশের ঠিক মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে আর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মৌসুমী স্রোত এদেশের দক্ষিণ-প্রান্তবর্তী বঙ্গোপসাগর দিয়ে অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বিরাজ করে।

গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত দেশের উত্তর-পূর্বে সর্বাধিক ৫,৬৯০ মিমি থেকে পশ্চিমে সর্বনিম্ন ১,১১০ মিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ভূগর্ভস্থ জল বৃষ্টিপাত এবং প্রবাহ প্রবাহের বার্ষিক পরিবর্তনের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত স্টোরেজ সরবরাহ করে। তিনটি প্রধান নদী থেকে গড় বার্ষিক স্রাব – মোট ৩৫,০০০ কিউসেক- অ্যামাজনের পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। প্রতিবছর কোটি কোটি টন পলি বোঝা বহন করে।

এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায়, এদেশে জলোচ্ছ্বাসের সাথে যুক্ত বিশেষত প্রাক-বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী মাসে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। সমতল বদ্বীপ উপকূলীয় অঞ্চলে জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্বের কারণে, এই জাতীয় ঘূর্ণিঝড়ে মানুষের প্রাণহানির আশংকা থাকে।

এদেশে মার্চ মাসের শেষ থেকে জুনের শেষের দিকে উচ্চ আর্দ্রতার একটি গরম গ্রীষ্মের অভিজ্ঞতা অর্জন করে, কিছুটা শীতল তবে এখনও জুনের শেষ থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত গরম এবং আর্দ্র বর্ষা এবং নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শীতকালে শীতকালীন শীত থাকে। দিনের তাপমাত্রা শীতল মাসে ৭ থেকে ১২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত এবং অন্যান্য মাসে এটি ২৩ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে পরিবর্তিত হয়।

জলবায়ুগত পরিবর্তন

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও জলবায়ু পরিবর্তন সংঘটিত হতে পারে। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সাধারণভাবে বলা হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের (CO2) পরিমাণ বৃদ্ধিকে বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। তবে সকল বিজ্ঞানী বিশ্ব উষ্ণায়নের এ তত্ত্বের সঙ্গে একমত নন।

কিছু কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রার বৃদ্ধি একই সঙ্গে ইতিবাচক ও নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনবে- কোনো কোনো অঞ্চলের জন্য তা হবে ধ্বংসাত্মক, আবার অন্যান্য অঞ্চলের জন্য তা উপকারী হয়ে দেখা দেবে। বিশ্ব উষ্ণায়ন মেরু অঞ্চল এবং হিমালয়ের চূড়ায় বিদ্যমান বরফস্তরকে ধীর ধীরে গলিয়ে ফেলবে।

এর ফলে, এক হিসাব মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২ থেকে ৩ মিটার বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে পৃথিবীর সকল উপকুলীয় সমভূমি এবং বদ্বীপ অঞ্চলসমূহ জলমগ্ন হয়ে পড়বে এবং সেইসঙ্গে উর্বর কৃষিভূমি ও খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাবে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য ঘাটতি, ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং মানুষের দুর্দশা বৃদ্ধি পাবে। যদি এ আশঙ্কা বা ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়ে দেখা দেয়, তাহলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় অর্ধেক এলাকা বঙ্গোপসাগরের নিচে তলিয়ে যাবে। অবশ্য এ তত্ত্বের বিপরীত তত্ত্বও রয়েছে।